সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Cockroach.jpg

তেলাপোকায় স্বাস্থ্যের ক্ষতি ও প্রতিরোধের উপায়

তেলাপোকা এক ধরনের ক্ষতিকর পোকা। সম্ভবত এমন কোন ঘর বা বাসা নেই যেখানে এদের দেখা মিলবে না। যাবতীয় ময়লা আবর্জনা ও অন্ধকারে এরা সহজে অভিযোজিত হতে পারে বলেই ৫ কোটিরও বেশি বছর ধরে টিকে আছে। তেলাপোকার বিরক্তিকর স্বভাবের জন্যই এদেরকে পেস্ট হিসেবে গণ্য করা হয়। তেলাপোকা আমাদের শরীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এরা কি ধরনের ক্ষতি করে ও তা থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে লেখার চেষ্টা করছি।

তেলাপোকার দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি -
১। স্বাস্থ্যের ক্ষতি: তেলাপোকাকে ঘৃণা করেন না এমন মানুষ পৃথিবীতে নেই বললেই চলে। কিন্তু এরা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্বের জানান দিয়ে আসছে। সরু পাইপ, ফ্রিজের কোনায়, রান্না ঘরের চিপাচাপায় একাকি বা দলবদ্ধভাবে বাস করে। তবে এরা দলবদ্ধভাবে থাকতে পছন্দ করে। সুযোগ পেলেই খাবারকে দূষিত করে। সেই দূষিত খাবার খেলে ডায়রিয়া সহ অনেক স্বাস্থ্যহানিকর রোগ হতে পারে।

২। খাদ্যের বিষক্রিয়া: তেলাপোকার দ্বারা খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। এর দ্বারা টাইফয়েড রোগ হতে পারে। এরা এক ধরনের ভাইরাস ছড়ায় যার নাম ককরোচ সালমোনেলা  (তেলাপোকার ইংরেজি ককরোচ)।

৩। এলার্জি: তেলাপোকার মুখ নিঃসৃত লালার মাধ্যমে এলার্জি হতে পারে। এর ফলে সর্দি, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও চুলকানি হতে পারে।

৪। ব্যাকটেরিয়া ছড়ানো: তেলাপোকার লালারসের মাধ্যমে খাবারে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়। এই সকল ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত খাবার খেলে মানুষের পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে তেলাপোকা সিউডোমোনাস এরিজিনোসা (Pseudomonas aeriginosa) নামক ব্যাকটেরিয়ার বাহক। যা মানুষের মুত্রনালীর প্রদাহ, পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ এবং সেপসিস করতে পারে।

৫। হাঁপানি: তেলাপোকাকে হাঁপানির রোগীদের বড় শত্রু বলা যায়। এটি হাঁপানির রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তেলাপোকার লালারসের সৃষ্ট এলার্জির মাধ্যমে এরা হাঁপানির রোগীদের ক্ষতি করে থাকে।

৬। শরীরের নরম অংশ কাটা: তেলাপোকা হাত, পা, আঙ্গুল, ক্ষত স্থানের নরম টিস্যু কেটে ফেলতে পারে।

তেলাপোকা প্রতিরোধে করণীয় -
১। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: যদি আপনি এই তেলাপোকাকে আপনার বাসায় দেখতে না চান তবে বাসা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। সপ্তাহে অন্তত একবার কক্ষ পরিষ্কার করুন। রাতে শোয়ার আগে রান্না ঘর পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন ময়লা-আবর্জনা মানেই সেটা তেলাপোকার মজার পরিবেশ।

২। খাবার ঢেকে রাখা: খাবার সর্বদা ঢেকে রাখবেন। ঘরের কোন স্থানে পুরাতন পত্রিকা, কাগজপত্র জমিয়ে রাখবেন না। ফ্রিজের নিচ ও চারপাশ সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করবেন।

৩। রোগ নিয়ন্ত্রণ: তেলাপোকার দ্বারা সৃষ্ট রোগ কমিয়ে নেয়ার জন্য আপনি ঘরের দেয়াল কিংবা মেঝেতে ফাটল থাকলে তা বন্ধ করে দিবেন।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সুখ-শান্তির জন্য শরীর সুস্থ্য রাখা জরুরী। আমাদের খাবার দূষিত হয়ে নানাবিধ জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তেলাপোকার দ্বারা খাবার খুব সহজেই দূষিত হতে পারে।

তাই তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী। আশা করি এই লেখার মাধ্যমে আপনাদের কিছুটা হলেও উপকার করতে পারব। ভাল থাকবেন, সুস্থ্য থাকবেন। এই কামনায় নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি।
   


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

clean, diseases, cockroach, health