সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

stop-smoking-now.jpg

ইচ্ছা শক্তি ধুমপানে বীষপান, ছেড়ে দেন সহজে

ধুমপান একটা সামাজিক ব্যাধি। যা অনেকের নেশায় পরিনত হয়েছে। আর এই নেশা হতে মুক্তি মিলছে না, অথচ কিছু পরামর্শ আপনাকে এর থেকে মুক্তি দিতে পারে। আসুন জেনে নেই।

মানুষের জীবন একটাই, তাই যতোটা ভালোভাবে পারা যায় সেই জীবনকে যাপন করা উচিত। সাধারণভাবে প্রতিটি মানুষই এ কথাটির সঙ্গে একমত হবেন। কিন্তু সিগারেটপ্রেমীদের ক্ষেত্রে এ কথাটি প্রযোজ্য নয়। কারণ ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকেরই প্রিয় এ জীবনের জন্য কতোটা মারাত্মক তা জেনেও সারা পৃথিবীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এ নেশাটির সঙ্গে জড়িত।

আর ধূমপান অর্থাৎ সিগারেট তো শুধু স্মোকারদেরই ক্ষতি করছে তা তো নয়; বরং তার চারপাশে উপস্থিত নন-স্মোকারদেরও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। কাজেই মারাত্মক এ বদভ্যাসটি ত্যাগ করার চেষ্টা করুন আজই।

এমন অনেকেই আছেন যারা সিগারেট ছাড়তে চান; কিন্তু পারেন না। তাদের জন্য পরামর্শ হলো প্রথমে আন্তরিক এবং দৃঢ়ভাবেই নেশাটি ছাড়ার চেষ্টা করুন।আর চেষ্টা করুন নিচের টিপসগুলো ফলো করার:

  • প্রথমেই সিগারেট ছাড়ার একটি তারিখ ঠিক করুন। যদি সম্ভব হয় তাহলে একজন স্মোকার বন্ধুকেও সঙ্গী হিসেবে নিন এ সৎ উদ্দেশ্যটি সফল করতে।
  • খেয়াল করুন দিনের কোন সময়ে এবং কেন আপনি সিগারেট খাচ্ছেন। সে সঙ্গে প্রতিদিনকার রুটিনে অন্য নিয়মিত কাজগুলোও খেয়াল করুন।
  • আপনার স্মোকিং রুটিনটাকে পাল্টে ফেলুন। সিগারেট রাখার জায়গাটিরও পরিবর্তন করুন। স্মোক করার সময় অন্য কোনো কাজ করবেন না এবং ওই সময়ে আপনার অনুভূতি সম্পর্কে ভাবুন।
  • একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সিগারেট ধরান। ভালো হয় জায়গাটি বাড়ির বাইরে হলে।
  • সিগারেট ধরানোর আগে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। ওই সময়টিতে সিগারেটের বদলে অন্য কিছু (এই যেমন চুইংগাম চিবানো, চকোলেট খাওয়া ইত্যাদি) করা যায় কি না ভাবুন।
  • একবারে একটির বেশি সিগারেটের প্যাকেট কিনবেন না।
  • কোনো একদিন হঠাৎ করেই আপনার সব সিগারেট ফেলে দিন। হাতের কাছ থেকে সরিয়ে রাখুন অ্যাশট্রে।
  • সকালের রুটিনটি পাল্টে ফেলুন। অর্থাৎ নাশতা করার আগে বা পরে দিনের প্রথম সিগারেটটি ধরানোর সময় অন্য কোনো কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকুন।
  • সারা দিনের সিগারেট খাওয়ার সময়গুলোতে চুইংগাম, হার্ড ক্যান্ডি, টুথপিক চিবানোর মাধ্যমে আপনার মুখকে ব্যস্ত রাখুন।
  • সিগারেটবিহীন পুরো একটি দিন কাটাতে সফল হলে নিজেই নিজেকে পুরস্কৃত করুন, হতে পারে সেটা প্রিয় একটি মুভি দেখে বা পছন্দের কোনো খাবার খেয়ে।
  • দীর্ঘদিনের বদভ্যাসটি ছাড়ার সময় সাময়িক কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন- ক্ষুধা, ঘুম বেড়ে যাওয়া, সিগারেটের প্রতি আকর্ষণ আরো বেড়ে যাওয়া, মেজাজ খিটমিটে হওয়া ইত্যাদি। ঘাবড়াবেন না, এগুলো অতি সাময়িক সমস্যা। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কেটে যাবে।
  • স্মোকিং ছাড়ার সময়কার সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে হালকা ব্যায়াম করতে শুরু করুন। হতে পারে সেটা হাটা বা সাইকেল চালানো।
  • সিগারেট ছাড়ার পজিটিভ দিক সম্পর্কে ভাবুন। যেমন ধরুন, আপনাকে নন-স্মোকার, ফ্রেশ দেখলে আপনার প্রিয়জনরা নিশ্চয়ই আনন্দিত হবে এবং তারা অন্যদের সামনে আপনাকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপিত করবে।
  • স্মোকাররা সাধারণত টেনশনের সময় বেশি করে সিগারেট খায়। কাজেই ওই সময়গুলোতে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, সিগারেট না খেয়ে টেনশনের কারণ এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে ভাবুন।
  • প্রতিদিনকার রুটিন খাবারগুলো সময়মতো খান, কারণ ক্ষুধাবোধ সিগারেটের তৃষ্ণাকেও বাড়িয়ে দেয়।
  • একটি মাটির ব্যাংক বা টাকা রাখার বাক্স কিনুন। সিগারেট না কিনে যে টাকাগুলো বেচে যাচ্ছে সেগুলো ওখানে সঞ্চয় করুন।
  • অন্যদের কাছে আপনার সিগারেট ছাড়ার গল্প বলুন। দেখবেন সবাই আপনাকে বাহবা দিচ্ছে। স্মোকার বন্ধুদেরও নিজের কথা বলে সিগারেট ছাড়তে উৎসাহিত করুন।
সিগারেট ছাড়ার প্রথম উদ্যোগে ব্যর্থ হলে হতাশ হবেন না। কারণ এ নেশা থেকে বের হয়ে আসতে সড়্গম হয়েছেন এমন অনেকেই কয়েকবার ব্যর্থ চেষ্টার পরই সফল হয়েছেন। কাজেই দু-একবারে সিগারেট ছাড়তে ব্যর্থ হলে ‘আমার দ্বারা হবে না’ এ রকমটি ভেবে মহৎ এ উদ্যোগটি চিরদিনের মতো শেষ করে দেবেন না।

ধূমপান বিষপান - কথাটি বিশ্বাস করুন মনে-প্রাণে। এই বিষ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, চারপাশের মানুষকেও মুক্তি দিন।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Smoking, health, Hazard, Killing, disease, stop, Avoid, practice, Power