সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

identity-crisis-personality.jpg

ব্যক্তিত্ব নয় মেকী ভালোবাসা, নয় মেকী শোক!

মন খুলে হাসলে আজকাল মানুষ বোকা বলে, প্রাণ খুলে বৃষ্টিতে ভিজলে বলে পাগল....

বর্তমান সময়ে একটা তথাকথিত ভালো মানুষের পোশাক যেন সবাই পরে ঘুরছে। কেউ  স্বেচ্ছায় কেউ অনিচ্ছায়। পোশাকটা আজকাল একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। আর এর নাম হয়ে গেছে ব্যক্তিত্ব। পাশের মানুষটাকে নিয়ে কটাক্ষ করতে সময়ের অভাব নেই অথচ নিজের সত্যিকার চেহারাটা আয়নায় দেখার সময় নেই।

একটা মেয়ে হয়তো খুবই চঞ্চল, অসম্ভব মজা করে সবসময়, ভাবগম্ভীরতা তার ধারে কাছে আসে না। সবসময় হাসি খেলায় থাকায় তাকে  আশেপাশের মানুষজন একেবারে হালকাভাবে হয়তো নেয়। সবাই খুব সহজে তাকে 'weak personality' উপাধিটা দিয়ে দেয়। কেউ কখনও চিন্তাও করে না যে এই মেয়েটা হয়তো নামাজ পড়ে। কেউ মেয়েটার দিকে একটু ঠিক করে খেয়াল করে না যে সে একেবারে সাধাসিধে হয়ে ঘুরে। চিরাচরিত ফ্যাশনের পোশাক আশাকের ধাঁচ তাকে স্পর্শ করে না। ছেলে মেয়ে ভেদাভেদ না করে একেবারে মন থেকে সবার সাথে মেশে। কোন একটা ছেলে বন্ধুর সাথে একা আড্ডা দেয়ার মাঝে সে কোন নোংরামি খুঁজে পায়না। এটাই বোধহয় তার কাল হয়ে দাড়ায়। অথচ কেউ কখনো না জানলেও নৈতিকতার কারণে একটা ছেলের সাথে বন্ধু ব্যতিত অন্য কোন সম্পর্কে জড়ায় না। আসলে সে তার কাছে বন্ধু মানে তো বন্ধু। কিন্তু মেয়েটা পরে বুঝতে পারে যে অনেক ধরণের নোংরামি চারপাশে ঘুরে। কারও বিপদের কথা শুনলে মেয়েটা ঝাঁপ দিয়ে পড়ে নিজের কথা না ভেবে। আর সেই মেয়েটাকে নিয়ে তখন বাজারে প্রচলন হয় হরেক রকমের কথা - 'রাত বিরাত কোন ভালো ঘরের মেয়ে কি এভাবে ঘুরে ফিরে'!

আবার একটা ছেলে হয়তো বন্ধু বান্ধবের সাথে সারাক্ষণ এটা সেটা দুষ্টামি করতে থাকে, সিগারেটের হালকা বদ অভ্যাসটাও আছে, কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে ছেলেটা তার মত করেই চলে। মেয়েদের সাথে সবসময়ই মজা করে সে কথা বলে লোকে যেটাকে আধুনিক ভাষায় 'flirt' বলে থাকে। বাইরে থেকে দেখে অনেকে তাকে নিয়ে যা খুশি তাই মন্তব্যও করে ফেলে। অথচ ব্যক্তিজীবনে ছেলেটা হয়তো একেবারে খোলা মনের একটা মানুষ। কখনও কোন মেয়েকে খারাপ নজরে দেখা তো দূরের কথা সে এমনটা চিন্তাও করতে পারে না। হয়তো হুটহাট অনেক বেমানান কথাবার্তা বলে বসে সে কিন্তু একটা মেয়েকে হেয় করা তার ব্যক্তিত্বের মাঝে নেই। একেই তো বোধহয় বলে সত্যিকারের ব্যক্তিত্বের পরিচয়।

কিন্তু যুগের সাথে সাথে ব্যক্তিত্বের সংজ্ঞাটা বদলে যাওয়ায় সত্যিকারের মানুষগুলোর জন্য খুব মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মানুষগুলো তো কোন রকমের মুখোশ পড়ে ঘুরে বেড়ানোয় অভ্যস্ত না। ভালো খারাপ যেমন ই হোক এরা ঠিক নিজেদের মতই আচরণ করে কোন রকম ভণিতা ছাড়া। আর সবচাইতে অদ্ভুত লাগে যে ব্যপারটা সেটা হল কিছু মানুষ নিজের শরীরে আবর্জনা নিয়ে ময়লা খুঁজে বেড়ায়। নিজের নোংরামিগুলো আরেকজনের মাঝে খুঁজে নিজেকে সাধু বানানোর চেষ্টা চলে সবসময়। এরা আবার খুবই ভীরু প্রকৃতির। একজনকে নিয়ে অন্য মানুষের সামনে খুব কথা বলতে পারে আবার সেই মানুষটার মুখোমুখি হলে চোখে চোখ রেখে দুটা শব্দ উচ্চারণ করতে পারে না। কি অদ্ভুত এ ধরণের আচরণগুলো। এখন তো মনে হয় যে যতটা লোক দেখানো ভালোবাসা, লোক দেখানো শোক প্রকাশ করতে পারে তার কথাগুলোই যেন তত সত্য। মন খুলে হাসলে আজকাল মানুষ বোকা বলে, প্রাণ খুলে বৃষ্টিতে ভিজলে বলে পাগল। যুক্তিগুলো কেমন যেন বিক্ষিপ্ত লাগে তবু সবাই তাই মেনে চলে। পথ হারাবার ভয়ে সবাই একটা পথকেই আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়।

জীবন তো কয়েকটা দিনেরই। এ কয়েকটা দিনে কেন তাহলে এত অভিনয়? এত মেকী ভালোবাসা? এত মেকী শোক? ব্যক্তিত্ব গঠন করতে করতে কখন যে মানুষ নিজেকেই হারিয়ে ফেলে! তাই মনে হয় সুখী থাকার অন্যতম উপায় হল নিজের মত করে থাকা, নিজের সত্যিকার  ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়া। অন্যথায় মানুষ একটা সাজানো পুতুল বই আর কি হবে?


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

youth, personality, thoughts, modern, identity, crisis, love, hate, benefits