সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

11940169_1666600870229888_1250933596_n.jpg

রোদ চশমার একাল-সেকাল

ইতিহাসে খুঁজলে দেখা যায় রোদ চশমার প্রথম উদাহরণ, রোমান সম্রাট নিরো সবুজ স্বচ্ছ এমারেল্ড পাথরের মধ্য দিয়ে গ্ল্যাডিয়েটরদের মরণপণ যুদ্ধ দেখতেন।

ম্যাট্রিক্স ছবি সবাই নিশ্চয়ই দেখেছেন। এই ছবির তারকারা একটু অদ্ভুত ধরনের সানগ্লাস পরতেন। আবার এখনকার মিশন ইম্পসিবলের কথা বললে ভাবতে বসতে হয় তারকাদের সানগ্লাসের বিচিত্র সব ব্যবহার! অনেক দেশে এখন মুখের গড়ন অনুযায়ী মানানসই সানগ্লাস গবেষণার বিষয়।

রোদে চোখে আরাম হওয়ার একমাত্র উপায় হল সানগ্লাস। বাংলায় যার নাম রোদচশমা। ঘর থেকে বের হলে রোদ আর ধুলাবালি থেকে চোখকে রক্ষা করার জন্য এর কোন তুলনা হয় না। এটি যেমন রোদ ও ধুলাবালি থেকে চোখকে রক্ষা করে সেই সাথে ফ্যাশনেও অনেক গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে।

অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত তারকাদের থেকে শুরু করে ক্রিকেটার, ফুটবলার, কবি, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের স্টাইলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হলো সানগ্লাস! তবে এই ফ্যাশনের শুরুটা কোথা থেকে হলো চলুন একটু যেনে নেই!

ইতিহাসে খুঁজলে দেখা যায় রোদ চশমার প্রথম উদাহরণ, রোমান সম্রাট নিরো সবুজ স্বচ্ছ এমারেল্ড পাথরের মধ্য দিয়ে গ্ল্যাডিয়েটরদের মরণপণ যুদ্ধ দেখতেন।  

রোদকে আটকানোর জন্য রোদ চশমার প্রচলন হয়নি। একটি বিশেষ কারণেই চৈনিক নির্মাতারা ধোয়াচ্ছন্ন লেন্সের চশমা প্রথম তৈরী করেন।

১৩০০ সালের দিকে চীনের বিচারকগণ বিচারকার্য চালাবার সময় চোখ কোয়ার্টজ এর কাঁচে ঢেকে রাখতেন যাতে তারা কি দেখছেন তা কেউ বুঝতে না পারে। মূলত তাদের চোখের দৃষ্টিকে আড়াল করতে এই চশমা ব্যবহার করা হয়। এরপর একশত বছর ধরে সানগ্লাসের ব্যবহার শুধু বিচারালয়ে হতে থাকলো।

১৪৩০ সালের দিকে রোদ-চশমা চীন থেকে ইতালীতে পাড়ি জমায়। তারাও বিচারিক কাজে রোদ চশমা ব্যবহার করত।

১৮০০ সালে তৈরি হয় গগলার্স। এর কাজ ছিলো ভ্রমণকারীদের চোখকে বাতাস, ধুলো এবং রোদের আলোর হাত থেকে রক্ষা করা।

আঠারো শতকের মধ্যভাগে জেমস আয়ুসকফ চশমার অস্বচ্ছ লেন্স নিয়ে গবেষনা শুরু করলেন। আয়ুসকফ বিশ্বাস করতেন নীল অথবা সবুজ অস্বচ্ছ কাঁচ নির্দিষ্ট দৃষ্টি ত্রুটি নিরাময় করতে সক্ষম হবে। সূর্যালোককে প্রতিহত করার কোন চিন্তা ভাবনা তার মাথায় ছিলো না।

১৯০০ সালের দিকে বিমান আবিষ্কারের ফলে মাটির অনেক উপরে উজ্জ্বল আলো সমস্যা হয়ে উঠে। তাই আমেরিকান আর্মি এয়ার কর্পস, বাউস এন্ড লম্ব কোম্পানিকে সমাধানের জন্য খবর দেন। তখন তারা সবুজ রেব্যান এভিয়েটর সানগ্লাস তৈরি করেন।

১৯২৯ সালে আধুনিক রোদ চশমা আসে। ১৯৩০ সালে ফস্টার গ্রান্ট কম্পানির প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ফস্টার আটলান্টিক সিটিতে ফস্টার-গ্রান্ট-সানগ্লাসের প্রথম জোড়া বিক্রি করেন।

১৯৩৭ সালে প্রায় ২০ মিলিয়ন সানগ্লাস আমেরিকায় বিক্রি হয়। জানা যায়, ছেলেদের থেকে মেয়েরাই সানগ্লাস ফ্যাশন হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে। তখন শতকরা প্রায় ২৫% মানুষ সানগ্লাস শুধু রোদ থেকে চোখকে রক্ষা করতেই ব্যাবহার করতো।

১৯৩৯ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে টিনটেড সানগ্লাসের প্রচলন শুরু হয় ইউরোপে। তখন হলিউডের তারকারা ব্যাপক ভাবে এটি পরা শুরু করেন।

১৯৬৫ সালে সানগ্লাসের আকার আর রঙ বদলাতে শুরু করে। সানগ্লাসের জন্য ফটোক্রমিক লেন্স আবিষ্কার হয়। যা সূর্যের আলোকে মৃদু করে।

সত্তর দশকে হলিউড তারকারা রৌদ- চশমা ব্যবহারের জন্য রীতিমত বিখ্যাত ছিলেন।

১৯৮০ সালে আরও উন্নত লেন্স আবিষ্কার হতে থাকে।

বিংশ শতাব্দীতে এসে রৌদ চশমা প্রাণ পায়। আমেরিকার মিলিটারি সানগ্লাস টেকনোলজির উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

ইতিহাস ছেড়ে বর্তমানে আসলে দেখা যায়, সবার চোখেই রোদ চশমা। ফ্যাশন আর পোশাকের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে এখন এর রঙ ও ধরন পালটাচ্ছে। মুখ এর আকৃতি আর নিজস্ব রুচির উপর নির্ভর করে রোদ চশমা পড়ছে সবাই। তরুণদের এখনকার অন্যতম অনুসঙ্গ এটি।

রোদ চশমার আধুনিকতা থেকে বর্তমানে এখন আর কেউই পিছিয়ে নেই।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

রোদ-চশমা, সানগ্লাস, ইতিহাস, রোমান-সম্রাট-নিরো, রেব্যান-এভিয়েটর-সানগ্লাস, টিনটেড-সানগ্লাস, ফটোক্রমিক-লেন্স