সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Sharee-History.jpg

নারীর জীবনে শাড়ী; নামে - বুননে আছে রকমফের

শাড়ী শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শাটি হতে যার অর্থ এক ফালি কাপড়। পরবর্তীতে এটি প্রাকৃত এর বিবর্তনের কারণে শাডি বা সাত্তিকা শব্দ হতে শাড়ী শব্দে পরিণত হয়েছে।

শাড়ী - দুই অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দকে ঘিরে নারীর জল্পনা কল্পনা। শাড়ী ভালোবাসেন না এমন বাঙালি নারীর দেখা মেলা ভার। জানেন কি কত রকমের শাড়ী আছে? কোন শাড়ীর দাম ই বা কেমন? আপনার জানা অজানা সব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সাজানো আমাদের আজকের আয়োজন। শাড়ীর রাজ্যে ভ্রমণে আপনাকে স্বাগতম।             

শুরুতে জানা যাক শুরুর ইতিহাস:
শাড়ী শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শাটি হতে যার অর্থ এক ফালি কাপড়। পরবর্তীতে এটি প্রাকৃত এর বিবর্তনের কারণে শাডি বা সাত্তিকা শব্দ হতে শাড়ী শব্দে পরিণত হয়েছে।

শাড়ীর উৎপত্তি জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে সূদুর অতীতে, ২৮০০-১৮০০ খ্রিষ্টপূর্ব সময়ে, সভ্যতার আরম্ভে। ভারতবর্ষীয় উপমহাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের মাঝে সেইসময়ে শাড়ীর প্রচলন খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। সিন্ধু সভ্যতার ভাস্কর্যে পুরোহিতদের শাড়ীকেই ধুতির মতো পরিহিত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং মনে করা হয় ধুতিই শাড়ী প্রচলনের ভিত্তি।

অন্য আরেকটি মতবাদে বলা হয়ে থাকে, ভারতবর্ষের কেরালা প্রদেশে ব্যবহৃত দুই প্রস্থের পোশাক মান্দাম নারিয়াথাম হতে শাড়ীর উৎপত্তি। চোলি, উত্তরীয়া, স্তান্নাপাতা, কুরপুশিকা প্রভৃতি পোশাক ব্লাউজের মত করে পরা হত অনেকস্থানে, কিন্তু অধিকাংশ স্থানেই ব্লাউজের প্রচলন ছিল না।

পরবর্তীতে ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্লাউজের ব্যবহার শুরু হয় এবং আধুনিক জ্ঞানদানন্দিনী দেবী ভারতে ব্লাউজের প্রথা চালু করেন এবং শাড়ী পরার আরেকটি অনুষঙ্গ পেটিকোটের প্রচলন শুরু হয় মুসলমানদের আগমনের সাথে। তারাই ঘাগরা / পেটিকোট পোশাকের ব্যবহার শুরু করে ভারতবর্ষে এবং শাড়ীতে সেলাইয়ের ব্যপারটি তারাই আরম্ভ করেন। পূর্বে কাপড়ে সেলাইয়ের প্রথাতো ছিলই না বরং কাপড়ে সেলাই কে অপবিত্র মনে করা হত। এভাবেই বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে আজকের শাড়ী তার নিজ রূপ ধারন করেছে।

শাড়ীর আছে কত রকমফের:
শাড়ীর রকমফেরের যেন শেষ নেই। জামদানি, ঢাকাই বেনারসি,  রাজশাহী সিল্ক, রেশমি শাড়ী, তসর সিল্ক, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ী, কাতান শাড়ী, পাবনার শাড়ী আরোও কত কি। শিফন, ট্যিসু কাতান, জর্জেট এগুলো তো আছেই।

হারিয়ে যাওয়া মসলিন:
মসলিন শাড়ীর কথা আমরা কেবল বইয়ের পাতায় পড়েছি বা পরিবারের বড়দের মুখে শুনেছি। একসময় বাঙালি নারীদের আভিজাত্যের পরিচয় ছিলো মসলিন শাড়ী। বারো হাতের একটি দীর্ঘ শাড়ীকে ভাজ করে অনায়াসে রাখা যেত দেয়াশলাই এর প্যাকেটের ভেতরে। একটি হাতের রিং এর ভেতর দিয়ে এদিক থেকে ওদিকে নেয়া যেত সহজে। এখন আর আসল মসলিন পাওয়া যায়না তবে মসিলিনের আদলে বানানো সূক্ষ্ম সুতার বুননের শাড়ী রয়েছে বাজারে।

সবসময়ের সেরা জামদানী:
নারায়ণগঞ্জের জামাদানী পল্লীতে এখনো প্রতিদিন বানানো হয় শত শত জামদানী শাড়ী। বিশেষ নকশায় বানানো এই জামদানী শাড়ী সবসময় ই নারীদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে। আর এখন দেশের পরিধি পেরিয়ে ভারতেও রপ্তানি হচ্ছে দেশী জামদানী।

স্বস্তিতে ঐতিহ্যে সুতি শাড়ী:
বাঙ্গালী নারীদের কাছে সুতি শাড়ীর আবেদন সবসময়ে ই রয়েছে। চিকন পাড়, মোটা পাড়, হাতের কাজ, বুটিকের কাজ কত না ধরন এসব শাড়ীতে তে। রঙে বৈচিত্রে আছে নানা রকমফের। ভিন্নতা আছে কাজের ধরন বা বুননে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে চাই বেনারসি বা কাতান:
বিয়ে বলতেই এক সময় চোখের সামনে ভেসে উঠত সুন্দর কাজ করা একটি বেনারসি শাড়ী। এখন ও সেই চাহিদা রয়েছে যদিও লাল এর পরিবর্তে এখন গোলাপি, নীল, বেগুনী এসব রঙ ও চলছে। পাশাপাশি আছে কাতান শাড়ীর চাহিদা।

তরুনীদের পছন্দে শিফন আর জর্জেট:
তারুন্য রঙের বয়স। উচ্ছলতায় নিজেকে ভরপুর রাখার বয়স। তরুনীরা তাই ভারী কাজের শাড়ী যেমন পছন্দ করে ঠিক তেমনি শিফন বা জর্জেটের এক রঙা শাড়ীগুলোও পছন্দ করে।

জায়গাভেদে শাড়ীর নাম:
বিভিন্ন শাড়ী রয়েছে জায়গার নামে। এই যেমন টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ী, রাজশাহী সিল্কের শাড়ী, মনিপুরি তাঁতের শাড়ী। এসব শাড়ীর বুননে আর গঠনে আছে ভিন্নতা। সব বয়সী নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এসব শাড়ী।

কোথায় পাবেন, কেমন দামে:
শাড়ীর প্রকারভেদ সম্পর্কে তো জেনে নিলেন। এখন জানা দরকার এসব শাড়ী কোথায় পাবেন। কেমন দামেই বা মিলবে পছন্দের শাড়িগুলো?

দেশের যেকোন শপিংমলেই শাড়ীর দেখা মিলবে। সাধ্যের ভেতর ভালো শাড়ী কিনতে চাইলে চলে যান মিরপুরের বেনারসী পল্লীতে। হাজারো ডিজাইনের নানারকম শাড়ী পাবেন এখানে। জামদানী শাড়িগুলো মিলবে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায়, কাতান পাবেন কাজের ধরন অনুযায়ী ৩ থেকে ১০হাজার টাকায়। ভালোমানের বেনারসি মিলবে ৬ থেকে ১৫হাজার টাকার ভেতর। সুতি শাড়ী গুলো পাবেন ৭০০টাকা থেকে ২হাজার টাকার ভেতর। 

শিফন, জর্জেটের শাড়ী কিনতে চাইলে গুনতে হবে আপনাকে আড়াই হাজার থেকে দশ হাজার টাকা। কাজের ধরন অনুযায়ী সব শাড়ীর দাম এদিক ওদিক উঠানামা করতে পারে।

এছাড়াও বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, হকার্স মার্কেট, রাপা প্লাজা এসব জায়গা তো আছেই।

যারা অন্যদের চেয়ে একটু ভিন্ন শাড়ীর ডিজাইনে নিজেকে রাঙাতে চান তাদের জন্য রয়েছে দেশীয় ফ্যাশন হাউজ আড়ং, নবরুপা, দেশি দশ, রঙ, নাগরদোলা, সাদা কালো ইত্যাদি।

সময় করে ঢু মারুন আপনার পছন্দের জায়গায় আর লুফে নিন পছন্দের শাড়ী। বাঙালি নারীর জীবনে শাড়ীর গুরুত্ব সবসময়ই একটু বেশি। তাইতো সব নারীই চান, পছন্দের সব শাড়ীগুলোই থাকুক তার সংগ্রহে। 

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

বিয়ে, ঐতিহ্য, ইতিহাস, মসলিন, বুনন, টাঙ্গাইল, কাতান, বেনারসী, জামদানি, শাড়ি, নারী, বাঙালি