সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Potato-for-Health.jpg

জেনে রাখুন রোগমুক্তি ও রূপচর্চায় আলুর খোসার ব্যবহার

আমরা সবাই জানি, আলু খেলে খুব দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এর খোসায় খুবই কম মাত্রায় চর্বি, কোলস্টেরল এবং সোডিয়াম রয়েছে। এ কারণে ওজন কমাতে খাদ্য তালিকায় আলুর খোসা রাখতে পারেন।

আলু আমাদের সকলের পরিচিত একটি সবজি। কন্দ জাতীয় এই সবজিটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্যশস্য। সাধারণত আমরা আলুর খোসা ছাড়িয়ে রান্না করে খাই। শুধু আলু নয়, আমরা প্রায় সব ধরণের সবজিই রান্নার পূর্বে খোসা ছাড়িয়ে নিতে পছন্দ করি। কারণ খোসাসহ রান্না করলে হয়ত কিছুটা দৃষ্টিকটু লাগে। পাশাপাশি খোসার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমাদের হয়ত ধারণাই নেই। এই খোসা আমাদের রোগমুক্তি ও রূপচর্চায় ব্যবহৃত হতে পারে!

চলুন জানা যাক আলুর খোসার ব্যবহার।
  • ওজন কমাতে সহায়ক: আমরা সবাই জানি আলু খেলে খুব দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এর খোসায় খুবই কম মাত্রায় চর্বি, কোলস্টেরল এবং সোডিয়াম রয়েছে। এ কারণে ওজন কমাতে খাদ্য তালিকায় আলুর খোসা রাখতে পারেন।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারক: আলুর খোসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। তাই এটি শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও এতে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • ক্যান্সার থেকে মুক্তি: আলুর খোসায় ফাইটো কেমিক্যাল নামক এন্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়াও এতে উচ্চ মাত্রায় ক্লোরোজেনিক এসিড বিদ্যমান। যা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানকে ক্যান্সার কোষ তৈরিতে বাঁধা দান করে।
  • কোলস্টেরলের মাত্রা কমায়: আলুর খোসায় উচ্চ মাত্রায় ফাইবার বা আঁশ বিদ্যমান। এই আঁশ এন্টি-অক্সিডেন্ট, পলিফেনল্‌স এবং গ্লাইকোএলকালয়েড্‌স এর সাথে মিলে শরীরের কোলস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এজন্য যদি কোলস্টেরলের মাত্রা কমাতে চান তবে আলু খোসাসহ রান্না করে খান।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: আলুর খোসায় খনিজ পটাশিয়াম বিদ্যমান। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। রক্তচাপের রোগীদের জন্য খোসা খাওয়া ভাল। এতে হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে সহায়ক ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডও থাকে।
  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: আলু ও খোসায় থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। দীর্ঘদিন আলুর খোসা খেলে টাইপ-২ ডায়বেটিস থেকে সুস্থ থাকা যায়।
  • ত্বক পুড়লে: ত্বক পুড়লে প্রচুর জ্বলতে থাকে। এ অবস্থায় আরাম পেতে আলুর খোসা জ্বলার স্থানে লাগাতে পারেন। ছোটখাট পোড়ায় এটি ব্যবহার করা যায়। আলুর খোসা শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক বা ব্যাকটেরিয়ারোধের কাজ করে। এটি ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে।
  • চুলের প্রাকৃতিক রঙ: সাদা চুল কালো করতে আলুর খোসার জুড়ি নেই। পাঁচটি আলু নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে একটি পাত্রে ২ কাপ ঠান্ডা পানি নিয়ে তাতে খোসা যোগ করতে হয়। এরপর সিদ্ধ করে আস্তে আস্তে ঠান্ডা করতে হবে। সম্পূর্ণ শীতল হলে পানিগুলো একটি বোতলে সংরক্ষণ করতে হবে। পরে কয়েক ফোঁটা সুগন্ধিযুক্ত তেলের সাথে চুলে লাগালে চুল কালো হবে।
  • কালো দাগ দূরকারক: খোসায় ব্যাকটেরিয়ারোধী, ফেনলিক এবং এন্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। যার কিছুটা ত্বকের দাগ দূর করতে সক্ষম। দাগযুক্ত স্থানে আলুর খোসা নিয়মিত ঘষলে কালো দাগ, সূর্যরশ্মির দ্বারা সৃষ্ট দাগ দূর হবে।
সূত্র: জার্নাল অফ এগ্রিকালচার এন্ড ফুড কেমেস্ট্রি, দি হেল্‌থ সাইট।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সবজি, স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর, দাগ, চুল, ত্বক, রূপচর্চা, খোসা, আলু, রোগমুক্তি