সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Winter-Care-for-Adult.jpg

ত্বকের যত্ন শীতকালে বয়স্কদের ত্বকের সুরক্ষায় করণীয়

সাধারণত বয়স্কদের ত্বক বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে পাতলা হয়ে যায় ও কুঁচকে যায়। আর শীতের সময় ত্বক শুষ্ক হয়ে বেশ কিছু ধরনের চর্ম রোগও হয়ে থাকে। তাই বয়স্কদের ত্বকের সুরক্ষায় যদি কিছু পদ্ধতি আগে থেকেই অনুসরণ করা যায় তাহলে এসব সমস্যাসহ শীতকালীন অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

শীতকালে স্বাভাবিক ভাবেই অন্যদের তুলনায় বয়স্কদের এবং ছোট শিশুদের একটু কষ্ট হয় বেশি। তাই তাদের ত্বকের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখা খুব জরুরি। সাধারণত বয়স্কদের ত্বক বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে পাতলা হয়ে যায় ও কুঁচকে যায়। আর শীতের সময় ত্বক শুষ্ক হয়ে বেশ কিছু ধরনের চর্ম রোগও হয়ে থাকে। ত্বক অত্যাধিক চুলকায়, র‍্যাশ হয়ে ত্বকের অবস্থা বেশ খারাপ পর্যায়ে চলে যায়।

সাধারণত ত্বকের বয়স্কদের মাঝে দুই ধরনের সমস্যাই বেশি দেখা যায় যেমন:

সেবোরিক ডার্মাটাইটিস (Seborrheic dermatitis):
এই সমস্যাটি হয় যখন ত্বকে বাড়তি একটা শুষ্ক স্তর পরে এবং চুলকায়, বিশেষ করে বুকে, আইভ্রুতে, মাথার তালুতে, নাকে ইত্যাদি স্থানে। শীতকালে এক ধরনের ইষ্ট মূলত এই সমস্যার জন্য দায়ী।

জেরোসিস বা অ্যাকজিমা ক্র্যাকুইলি (Xerosis/eczema craquele):
এই সমস্যাটা হচ্ছে হাত ও পায়ে একধরনের র‍্যাশ হয়ে চুলকায়। এটা যদিও যেকোনো বয়সেই হতে পারে তবে বয়স্কদের এই সমস্যাটা বেশি হয়ে থাকে। শুষ্ক আবহাওয়া এর একটি কারন। চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালের আবহাওয়া ত্বক থেকে আর্দ্রতা শুষে নিয়ে ত্বককে করে শুষ্ক ও রুক্ষ। যার ফলে ত্বকের মরা কোষ গুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠে।

তাই বয়স্কদের ত্বকের সুরক্ষায় যদি কিছু পদ্ধতি আগে থেকেই অনুসরণ করা যায় তাহলে এসব সমস্যাসহ শীতকালীন অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

ত্বকের মরা কোষ তুলে ফেলা:
ত্বকের মরা কোষ ঘষে তুলে ফেললে তা নতুন ত্বক সৃষ্টি হতে এবং কোলাজেনে উৎপাদনে সাহায্য করবে। ত্বক হবে উজ্জ্বল এবং মসৃণ। অবশ্য এই কাজটি প্রতিদিন না করে সপ্তাহে দুইবার করলেই যথেষ্ট। তবে অবশ্যই কাজটা করতে হবে আগে ত্বক ভিজিয়ে খুব নমনীয় ভাবে।

উন্নত ময়েশ্চেরাইজার ব্যবহার করা:
ত্বককে নিয়মিত ভাবে আর্দ্র রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কারন ত্বককে আর্দ্র রাখলে ত্বক থাকবে পুষ্ট এবং সেই সাথে তা কোলাজেনের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে। এজন্য উন্নত ধরনের এবং মানের ময়েশ্চেরাইজার ব্যবহার করতে হবে। তাই অন্যান্য ময়েশ্চেরাইজার ব্যবহার না করে তৈলাক্ত ময়েশ্চেরাইজার ব্যবহার করা ভালো এবং ব্যবহারের পর ভালোমত কাপড় পড়ে যতদূর সম্ভব ঢেকে রাখতে হবে যেন ফলে ত্বক ময়েশ্চেরাইজার শুষে নিতে পারে।

তাপ থেকে যথা সম্ভব দূরে থাকা:
শীতকালে গরম পানিতে গোসল করা যদিও সবচেয়ে আরামদায়ক একটি ব্যাপার তবে এই শীতকালেই খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার সীমিত রাখা উচিত। কারন নিয়মিত ভাবে বেশি গরম পানি ব্যবহার করলে ত্বকের বেশির ভাগ আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।

তাই যদি সম্ভব হয় প্রতিদিন গোসল করতে হবে এবং গোসলের সময় কুসুম গরম পানিতে খুব কম সময়ে গোছল করতে হবে। গোসলের পানিতে কোনো প্রাকৃতিক তেল কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিলে এবং গ্লিসারিনযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে তা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

সানস্ক্রিন লোশনের ব্যবহার:
অনেকেই ভাবেন শীতকালে হয়তো সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে হয়না। কারন সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি শুধু গরমকালে নয় শীতকালেও থাকে তাই এবং সহজে সানবার্নও হতে পারে। তাই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি ঠাণ্ডায় কালো হয়ে যাওয়া, সানবার্ন থেকে ত্বককে রক্ষা করতে এবং বিশেষ করে ত্বকের ক্যান্সার রোধে।

-
লেখক: জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ; এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ; খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান (স্নাতকোত্তর) (এমপিএইচ); মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

আবহাওয়া, অ্যাকজিমা-ক্র্যাকুইলি, জেরোসিস, সেবোরিক-ডার্মাটাইটিস, র‍্যাশ, চর্ম-রোগ, শুষ্ক, যত্ন, ত্বক, বয়স্ক, শীতকাল