সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Jwellary-Topic.jpg

অলংকার জেনে নিন গহনার সাত কাহন

সব সাজগোজ শেষ। পোশাকটাও সুন্দর। কিন্তু আপনার কান দুটো খালি কিংবা গলায় কিছুই পরেননি। আপনার সাজটা কি পূর্ণতা পাবে! চিরন্তন সৌর্ন্দয্যের অবিচ্ছেদ্দ অনুষঙ্গ গহনা। গহনায় নারী হয়ে ওঠে আরো মোহনীয়। গহনা ছাড়া নারীর সাজ সর্ম্পূণ হয় না। তাই বলে সব সময় তো আর সোনা-রূপার মতো দামি গহনা পরা যায় না। বরং এখন তরুণিরা বিকল্প গহনাতেই সাবলীল।

প্রাচীনকাল থেকেইে চলে আসছে গহনা বা অলঙ্কারের প্রচলন। আদিম যুগে নারী-পুরুষ সবাই অলঙ্কার পরতো। তখন অবশ্য সোনা, রূপা, মনি-মুক্তার প্রচলন ছিলো না। অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহৃত হতো ফুল, লতা-পাতা, গাছের ছাল-বাকল, শেকড়, জন্তু-জানোয়ারের হাড়, শিং, পাখির পালক ইত্যাদি।

অবশ্য অলঙ্কার হিসেবে ফুলের কদর এখনও কমে নি। বিয়ে বাড়িতে হলুদের অনুষ্ঠানে এখনও ব্যবহৃত হয় ফুলের গহনা। আর র্বতমানে অলঙ্কার হিসেবে এসেছে সোনা, রূপা, হীরা, মুক্তা রত্নরাজি। তবে এখন এইসব দামী রত্নরাজি গহনার চেয়ে ইমিটেশনের হালকা গহনায় বেশি জনপ্রিয়।

আবার আপনি যদি ম্যাচিং করে একটা মাটির গহনাও পরেন, তাতেও আপনি হয়ে উঠতে পারেন অপরূপা। আবার স্থান-কাল না ভেবে খুব দামি গহনা পরেও হাসির পাত্রী হতে পারেন।

আজকাল সোনার চেয়ে রূপার গহনা বেশ জনপ্রিয়। এর কারণ সোনার দাম এবং নিরাপত্তার অভাব। আবার অন্যদিকে সোনা বা রূপার বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইমিটিশেনের গহনা। পোশাকের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরেন তাহলে বেশ মানাবে। আর দাম কম হওয়ায় কেনাও সহজ। আজকাল অল্প বয়সী মেয়েরা ইমিটিশেনের গহনা বেশি পছন্দ করে।

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজাইনের পরির্বতন ঘটেছে। নানী-দাদীরা ভারি গহনা ছাড়া চিন্তাই করতে পারতেন না। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে। বদল হয়েছে রুচির। এখন ভারী গহনার চেয়ে হালকা গহনায় বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পোশাক ও চেহারার সাথে মিলিয়ে অনায়াসে পরতে পারেন রুচিসিম্মত গহনা।

সাজ-সজ্জায় পোশাকের পর গহনা পরা হয় সৌর্ন্দয বাড়াতে। তাই জানা প্রয়োজন কোন অনুষ্ঠানে কী শাড়ি ও কী রকম মেক-আপ এর সাথে কী ধরনের গহনা পরলে আপনাকে মানাবে। আধুনিক নারীরা এখন আর আগের মতো ভারি গহনা পরেনা। পোশাক ও সাজের সাথে মানানসই হালকা গহনায় আপনাকে আরও সুন্দর করে তুলবে। আপনার সাজসজ্জাতেই আপনার ব্যক্তিত্বের বর্হিপ্রকাশ ঘটবে।

তাঁতের শাড়ির সঙ্গে বাহারি মাটির গহনা বেশ মানানসই। এখন মাটির সাথে বিভিন্ন মেটালের সম্বনয়ে নানা ধরনের গহনা তৈরি হয়। সেগুলো আপনার সাজে নতুনত্ব আনবে। ফুটিয়ে তুলবে বাঙালিয়ানা।

হাল ফ্যাশনের সাথে আরো যুক্ত হয়েছে মেটাল ও বিডসের গহনা। কাঠ, বাঁশ, পুঁতি, সুতা, টারশেল দিয়েও তৈরি হচ্ছে ফ্যাশনাবল গহনা। এসব গহনা যে কোন পোশাকের সাথে বেশ মানিয়ে যায়। যেমন টপসের সাথে মেটালের মালার সাথে বড় লকেট পরতে পারেন। সালোয়ার কামিজের সাথে কাঠ, বাঁশ বা মাটির যে কোন গহনা বেশ মানিয়ে যাবে। আর শাড়ির সাথে পরতে পারেন হালকা বা ভারি মেটালের গহনা।

গহনা পরার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখবেন। যেমন :
  • রাতের কোন অনুষ্ঠানে বা বিয়ে বাড়িতে আপনি চাইলে ভারি গহনা পরতে পারনে। কিন্তু দিনের বেলার অনুষ্ঠানে হালকা গহনা ব্যবহার করাই ভালো।
  • গহনা পরার সময় আপনার বয়সটা ভাবুন। বয়স একটু বেশি হলে হালকা মেক-আপের সাথে সোনা বা পাথরের গহনা পরতে পারেন। তাতে আপনাকে বেশ মানাবে।
  • আর বয়স কম হলে যেমন খুশি তেমন সাজবেন তা কিন্তু ঠিকনা। বয়স অনুপাতে হালকা গহনা বেশি মানাবে। জবরজং গহনায় আপনাকে বেমানান লাগবে। আজকাল ইমিটিশনের নানা ধরনের গহনা পাওয়া যায় সেগুলো পোশাকের সাথে ম্যাচিং করে পরতে পারেন।
  • অনেকেই বাড়ির হালকা অনুষ্ঠানে জড়োয়া গহনা পরে বসেন, এটা করবেন না। এতে রুচিবোধের অভাব পরিলক্ষিত হয়। একমাত্র বিয়ে বাড়ি বা জমকালো অনুষ্ঠান ছাড়া ভারি অলঙ্কার না পরাই ভালো। গহনা আধুনিক কিংবা পুরানো দিনের হোক শুধু খেয়াল রাখবেন কোন অনুষ্ঠানে কী পরবেন।
  • অফিসের সাজে আপনাকে আরো সচেতন হতে হবে। এমন সাজে সজ্জিত হবেন সে সাজ আপনাকে হাসির পাত্রী করে তোলে। অফিসে যত ছিমছাম যাওয়া ততই ভালো। তাই পোশাকটা কারুকার্য খচিত হলে গহনা যথাসম্ভব কম পরাই ভালো।
  • একটা হালকা হার বা ঝোলা দুলই যথষ্টে। দুল ঝোলা না হলে টপ পরলেও মানাবে। পোশাক যদি সাদামাটা হয় তাহলে সামান্য ভারি গহনা পরতে পারনে। তবে যেটাই পরেন সেটা যেন একটাই হয়। তা হতে পারে একটা লম্বা হার বা সুন্দর একটা বালা। কিংবা এক জোড়া দুল। 
  • শব্দ হওয়া কোন অলঙ্কার না পরাই ভালো। কারণ অফিসে আপনি এমন গহনা পরবেন না যা আপনার সহকর্মিকে বিরক্ত করে।
সাজ পোশাকের সাথে মিলিয়ে গহনা পরার টিপস:
  • কখনোই বেশি ভারি কাজ করা শাড়রি সাথে ভারি গহনা পরবেন না।
  • গলা লম্বাটে হলে গলায় চিক কিংবা গলার কাছে এঁটে থাকে এমন গহনা পরলে ভালো মানাবে। কানে মাঝারি বা ছোট দুল পরতে পারেন। গলায় ভারি গহনা পরলে কানে অবশ্যই ছোট পরবেন।
  • খাটো গলায় ভারি আঁটসাঁট গহনা পরবেন না। এতে গলা আরও ছোট দেখাবে। এক্ষেত্রে ঢিলেঢালা লম্বা হার ও লম্বা চেইন এবং কানে লম্বা দুল পরলে লম্বা মনে হবে। রোগা-পাতলা, ছোট-খাটো হলে ছোট ধরনের গহনাই মানানসই হবে।
গহনা ভালো রাখতে কি করবেন:
  • ইমিটিশেনের গহনা সবসময় বাতাস না লাগে এমন বাক্সে মুখ বন্ধ করে রাখুন। তুলা দিয়ে পেঁচিয়ে রাখলে রং নষ্ট হবে না।
  • রূপার গহনায় বাতাস লাগলে কালচে হয়ে যায়। তাই বাতাস যাতে না লাগে সেভাবে বাক্সে রেখে দিন এবং ময়লা হলে হালকা গরম পানিতে জেট পাউডার গুলিয়ে তাতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে দিন। তারপর টুথব্রাশ দিয়ে ঘষে পরষ্কিার করলেই নতুনের মতো লাগবে।
  • সোনার গহনা বাতাস লাগলে কালো হয় না, তবে মাঝে মাঝে ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে এক্ষেত্রেও হালকা গরম পানিতে জেট পাউডার গুলিয়ে তাতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে দিন তারপর টুথব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করলেই নতুনের মতো লাগবে।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

গহনা, অলংকার, সাতকাহন, সোনা, রুপা, ব্রোঞ্জ, ইমিটেশন, সাজসজ্জা, পোশাক