সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

10_Block-Batik_New+Market_040415_0003.jpg

মোম বাটিক ঘরে বসেই পোশাকে করতে পারেন মোমবাটিক

কাপড়টি রঙের পানি থেকে তুলে ঐ রঙের পানিতে ২ চামচ সোডা গুলে কাপড়টি আবার ১৫ মিনিট রঙের পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর কাপড়টি নেড়েচেড়ে আবার ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে।


কাপড়ের কিছু অংশে নকশা এঁকে মোম দিয়ে ঢেকে তারপর তা রং গোলানো পানিতে ডুবিয়ে যে পদ্ধতিতে কাপড় রং করা হয় তাকে মোম বাটিক প্রিন্ট বলা হয়। এ ক্ষেত্রে নকশার অংশে রং ঢুকতে দেয়া হয় না। নকশায় যাতে রং না ঢোকে তার জন্য মোম ব্যবহার করা হয়। আজ আমি তাই আপনাদের সুবিধার জন্য জানাতে এসেছি কিভাবে ঘরে বসেই মোম বাটিক করতে পারেন। 
উপকরন- 
  • সাদা মোম ২৫০ গ্রাম
  • মধু মোম ৫০ গ্রাম
  • রজন ১০০ গ্রাম 
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে একটি পাত্রে উপকরনগুলো সব একসাথে দিয়ে চুলায় হালকা আঁচে গলাতে হবে। গলানোর পর ডাইসের সাহায্যে কাপড়ে মোম লাগাতে হবে।
রঙ করার নিয়মঃ 
প্রথম ধাপ 
১. মাড় ছাড়া সমান কাপড়ে নকশা আঁকতে হবে। প্রথমে পেন্সিল দিয়ে নকশা এঁকে নিতে হবে যাতে ভুল হলে তা রাবারের সাহায্যে মুছে ফেলা যায়। আঁকা শেষ হলে এর উপর কলম দিয়ে আঁকতে হবে।  
২. এবার যে অংশে কাজ করা হবে সেটা টান টান করে ফ্রেমে অথবা পিন দিয়ে আটকাতে হবে।  
৩. চুলার উপর পাত্রে ৪ ভাগ প্যারাফিন, ২ ভাগ মধু মোম আর ১ ভাগ রজন মিশিয়ে গলিয়ে নিতে হবে। গলা মাত্র পাত্র চুলা থেকে নামিয়ে তুলির সাহায্যে মোম নকশায় লাগাতে হবে। নকশার যে সব অংশে রঙ করা হবে না শুধু সেখানে মোম লাগাতে হবে। মোম জমে গেলে পাত্র আবার চুলায় দিতে হবে।  
৪. ভুল জায়াগায় মোম পড়ে গেলে তার উপর চোষ কাগজ রেখে গরম ইস্ত্রি ধরলে বাড়তি মোম উঠে যাবে।  
৫. প্রথম পিঠে মোম লাগানোর পর উল্টো পাশে একই জায়গায় মোম লাগাতে হবে। এরপর আবার প্রথমে যেখানে মোম লাগানো হয়েছিল সেখানে মোম লাগাতে হবে।  
৬. তুলির বদলে জান্টিং (সরু নলওয়ালা হাতলসহ ছোট পাত্র) দিয়েও মোম লাগানো যায়। এক্ষেত্রে জান্টিং-এ গলা মোম নিয়ে সরাসরি মোম দিয়েই কাপড়ে নকশা আঁকা যায়।  
৭. সব খানে মোম লাগানোর পর ফ্রেম থেকে খুলে কাপড়টি কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা ছায়ায় রাখলে বা অথবা এক ঘণ্টা পানিতে ডুবিয়ে রাখলে কাপড়ে ভালো করে মোম বসবে।  
৮. বাজারে নানান রকম রঙ কিনতে পাওয়া যায়। আবার তৈরির নিয়ম শিখে নিয়ে নিজেরাও নতুন রঙ তৈরি করা যায়।  
দ্বিতীয় ধাপ 
১. রঙ করার আগে কাপড়টি ১০ মিনিট ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।  
২. যে পাত্রে রঙ করা হবে সে পাত্রে ১ ছটাক ফুটন্ত গরম পানিতে রঙ গুলিয়ে নিতে হবে। কাপড়টি যাতে ভালোভাবে ভিজে তাই এর মধ্যে পরিমাণ মতো ঠান্ডা পানি দিতে হবে। এরপর কাপড় দিয়ে ১৫ মিনিট কাপড়টি নাড়াচাড়া করতে হবে।  
৩. গামলা থেকে কাপড়টি উঠিয়ে ঐ রঙের পানিতে ৯ চামচ লবণ গুলিয়ে কাপড়টি আবার ১৫ মিনিট রঙের পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।  
৪. 
কাপড়টি রঙের পানি থেকে তুলে ঐ রঙের পানিতে ২ চামচ সোডা গুলে কাপড়টি আবার ১৫ মিনিট রঙের পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর কাপড়টি নেড়েচেড়ে আবার ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন মোম ঢাকা অংশগুলোতে বেশি চাপ না লাগে।  
৫. এরপর কাপড়টি পানি থেকে তুলে ২৪ ঘণ্টা ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে।  
৬. শুকনো কাপড়ের মোম ছাড়ানোর জন্য ৩০ মিনিট ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত রঙ না উঠে ততক্ষণ পর্যন্ত বেশি করে ঠান্ডা পানি নিয়ে কাপড় ধুতে হবে।  
৭. ফুটন্ত সাবান মেশানো পানিতে কাপড়টি পাঁচ মিনিট নাড়াচাড়া করলে মোম উঠে যাবে।  
৮. মোম ছাড়ানো শেষ হলে কাপড়টি ঠান্ডা পানিতে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে।  
৯. এরপর কাপড় ছায়ায় শুকিয়ে নিতে হবে। মাড় দিয়ে কাপড় শুকিয়ে নিয়ে ইস্ত্রি করলে বাটিকের কাজ শেষ।  
১০. নকশার বিভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন রঙ করতে হলে বহু রঙের বাটিকও করা যায়।  
সাবধানতা-কাপড়ে মোম লাগানোর সময় সাবধান থাকতে হবে যেন নকশার বাইরে মোম ছড়িয়ে না যায়।  


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

মোম, প্যারাফিন, রজন, জান্টিং, রং, সোডা, লবন, বাটিক