সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

অনর্থক, অনর্গল : রাত সোয়া দশটা

একটা ছেলে। চুল আলুথালু, একটু অগোছালো - অনেকটা মানিয়ে যাওয়া অগোছালো। জিজ্ঞাসা করি - দর্শন বোঝো? মাথা ঝাকানো একটা ভাব, ঠিক সম্মতিও না আবার অসম্মতিও না। আমিও দর্শন বুঝি না। অনুমান করি এমন একটা ভাবই হয়তো স্বাভাবিক। বিষয় এড়িয়ে যাই। একটু ভীতি থেকেই, আমিও তো তেমন কিছু জানি না। যদি উল্টো প্রশ্ন করে বসে! নিজের উপর খানিকটা জিদও হচ্ছে - কেন এমন একটা প্রশ্ন করতে গেলাম। আতলামো প্রশ্ন, বাজে প্রশ্ন। অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা শুরু করা যেত। নাম ধাম এমন কিছু। বা কি করে তা নিয়ে। দেখে ঠিক বোঝা যায় না বয়স কত হতে পারে। চেহারায় মনে হচ্ছে স্কুলে পড়ে। কিন্তু অন্য কোথাও আরেকটা ভাব আছে যেটা দেখে আবার মনে হয় নিশ্চিত বিএ এমএ এর কাছাকাছি কিছু একটা হবে। এখন আবার বিরক্ত লাগছে। কেন তুমি করে শুরু করলাম। আমি তো নিশ্চিত জানি না সে কে। একজন অপরিচিত মানুষ তা সে যেই বয়সের হোক না কেন তাকে হুট করে তুমি বলাটা ঠিক না। এতে তার কেমন লাগে এটার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজে অপমানিতবোধ করার সম্ভাবনা থাকে। সত্যি কথা হলো দর্শন নিয়ে আসলেই আমার আগ্রহ আছে। অনেকবার বোঝারও চেষ্টা করেছি, দুই একবার বইপত্র নিয়েও বসেছিলাম। এইতো সেদিনও Kant লিখে গুগলে কিছুক্ষণ খোঁজাখুজি করলাম। যেসব কথাবার্তা আসে সবই ইংরেজিতে। খুব একটা বুঝি না, কিছুক্ষণ পর আর ধৈর্য থাকে না, পড়া হয় না। এরকম অনেকবার চেষ্টা করেছি। প্রতিবারই প্রথম কয়েকটা লাইন পড়া হয়। ধুর, এখন তো আবার আরেক চিন্তা মাথায় ঢুকলো! দর্শন মানেই কি Kant? তা না হলে দর্শন বোঝার ইচ্ছা হলে আমি Kant খুজি কেন? অদ্ভুত সমস্যা! এই নামটার সাথে একটা বিশেষ কারণে আমার পরিচয় হয়েছিল। মাঝখানে একবার বিদেশী ভাষা শেখার খুব ইচ্ছা হয়েছিল। কোনো এক অজানা কারণে জার্মান ভাষা শেখার ক্লাশে ভর্তি হলাম। জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি বোঝানোর সময় এই Kant প্রসঙ্গটি আসে - এই টুকুই! যাক সেই কথা। আমি কথা বলছিলাম আলু থালু চুলওয়ালা ছেলেটার সাথে। এই ছেলেটাকে যখন প্রথম আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা মাথায় আসে তখন আমি এমন কিছু একটা করছিলাম যা আমার মাঝে এক ধরনের শূন্যতাবোধের সৃষ্টি করছিলো। সে এক অদ্ভুত গল্প। আপনি যদি টানটান হয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করে লম্বা কয়েকটা নিশ্বাস নেন তাহলে আমার সেই সময়কার অনুভুতির ব্যাপারে কিছুটা অনুমান করতে পারবেন। (অসমাপ্ত)
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

life, freedom, talk, philosophy, thought, madness